দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুর শহরের নড়াইলপাড়ায় অবস্থিত নিউ ফেয়ার হেলথ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে ডা. মো. গোলাম মাসুদ মৃধার বিরুদ্ধে। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত ডিগ্রি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অভিযান চালালেও অভিযানের সময় তাঁকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটিতে অভিযান পরিচালনা করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযানে তাঁর নামে টানানো ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে তাঁকে দিয়ে আর রোগী না দেখানোর জন্য সতর্ক করা হয়।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাওয়া তাঁর ভিজিটিং কার্ড ও প্রচারসামগ্রীতে ডা. মো. গোলাম মাসুদ মৃধাকে এমবিবিএস, এমডি (চর্ম ও যৌন), ডিইউএমএস (ইউনানী মেডিসিন) ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে চর্ম, যৌন, কুষ্ঠ, অ্যাজমা ও অ্যালার্জি রোগের বিশেষজ্ঞ হিসেবেও পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডিগ্রি যাচাই করতে গিয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, তিনি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে এমবিবিএস এবং ডার্মাটোলজিতে এমডি ও পিএইচডি করার দাবি করেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় তাঁর চেম্বার রয়েছে বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের আরও দাবি, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে এমবিবিএসের ভুয়া সনদ বিক্রির অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান পরিচয়দানকারী এন এম হক ওরফে ডা. সাইদুর রহমানকে ২০২২ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছিল। ডা. গোলাম মাসুদ মৃধার খুলনাতেও চেম্বার রয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান বলেন, ডা. মো. গোলাম মাসুদ মৃধার অর্জিত ডিগ্রিগুলো ভুয়া বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। তাঁর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) রেজিস্ট্রেশনও পাওয়া যায়নি। এ কারণে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানের খবর পেয়ে কথিত ওই চিকিৎসক আগেই চলে যান। তিনি প্রতি রোববার পিরোজপুরে রোগী দেখেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং তাঁকে আর সেখানে রোগী দেখানো হবে না বলে তারা জানিয়েছে। এরপরও তিনি রোগী দেখাতে এলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানের সময় ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তিকে দিয়ে রোগী না দেখানোর জন্য সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি তাঁর নামে থাকা ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডা. মো. গোলাম মাসুদ মৃধার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নিউ ফেয়ার হেলথ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মো. মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, সিভিল সার্জন ক্লিনিক পরিদর্শন করে ওই চিকিৎসককে সেখানে চেম্বার করতে নিষেধ করেছেন। তাঁরাও তাঁকে দিয়ে আর চেম্বার না করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এমএস/